যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে পাল্টা আঘাত হানতে সর্বোচ্চ রণপ্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই হামলার জবাব হবে অত্যন্ত বিধ্বংসী। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে আল-জাজিরা জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির বাসভবন, গোয়েন্দা সদরদপ্তর এবং সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার শিকার শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে তেহরান, ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ। প্রত্যক্ষদর্শীরা এই পাঁচটি শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। হামলার পরপরই তেহরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও যোগাযোগ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
এদিকে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী এখন পাল্টা আক্রমণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এবার তাদের আঘাত হবে নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ শুরুর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন, তবে যেকোনো সময় ইরান থেকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments