ইরানে শনিবার সকালে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) স্থল শাখার প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বিশ্বাস—এই হামলায় জেনারেল পাকপুর ছাড়াও ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং গোয়েন্দা প্রধানও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তেহরান কিংবা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধের শুরুতে তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান হোসেন সালামি নিহত হওয়ার পর মোহাম্মদ পাকপুর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
শনিবারের এই সুপরিকল্পিত অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের বাসভবন ও কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এই হামলার চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট।
এদিকে ইরানের ওপর এই বিধ্বংসী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন নতুন মাত্রা নিয়েছে। ইরাকের ইরানপন্থী শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘কাতায়েব হিজবুল্লাহ’ তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। গোষ্ঠীটি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, তারা খুব শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সর্তকতা জারি করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানে হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসরায়েলি ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। নাগরিকদের সর্বোচ্চ সর্তক থাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণের কোনো তথ্য রিয়েল-টাইমে শেয়ার না করার এবং বড় ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments