যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানে ৫৩ জন শিশুসহ অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পরিচালিত এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন স্থবির হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সংঙ্কেত দিচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদে ইরানও ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করেছে। দুই পক্ষের এই বিধ্বংসী লড়াইয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে।
ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রধান তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো তাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। শীর্ষস্থানীয় একটি বাণিজ্যিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের জাহাজগুলো বর্তমানে যেখানে আছে সেখানেই স্থির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বিশ্বের প্রধান তেল করিডোর হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ। এছাড়া বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যেরও ২০ শতাংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর এটিই প্রধান রুট।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হামলার আশঙ্কায় গত শুক্রবারই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম নজিরবিহীনভাবে বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ৭০ ডলারের আশেপাশে থাকলেও তা মুহূর্তেই ১০০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি হাহাকার শুরু হবে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের দিকে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments