‘যুক্তরাষ্ট্র গুণ্ডামি চালাচ্ছে’: খামেনি হত্যাকাণ্ডে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার তীব্র নিন্দা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা এবং তেহরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে "অবৈধ আগ্রাসন" ও "গুণ্ডামি" হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একইসঙ্গে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রোববার (১ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এক প্রতিবেদনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতি প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান প্রত্যাশিতই ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, "যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী এবং গুণ্ডামিসুলভ আচরণে এমন ঘটনা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। এই আগ্রাসনের যুদ্ধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" পিয়ংইয়ং মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ দায়িত্ব নেওয়া উচিত।
এদিকে, খামেনি হত্যার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আজ রোববার তেহরানে আরও ব্যাপক আকারে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তেহরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে।
এই যৌথ হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্যদিকে, খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পাঠানো এক বার্তায় পুতিন একে একটি "নৃশংস হত্যাকাণ্ড" বলে অভিহিত করেন। রুশ বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন এই ঘটনাকে মানবিক নৈতিকতার সমস্ত আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার এমন কড়া অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে একটি বৈশ্বিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments