Image description

ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সব ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মার্কিন কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের এই উদ্বেগের কথা জানান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত নিচ দিয়ে এবং ধীরগতিতে উড়তে পারে, যা ব্যালেস্টিক মিসাইলের চেয়েও সহজে রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। মার্কিন কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলো ধারণার চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল জানান, প্রশাসন আশা করছে এই যুদ্ধ ৩ থেকে ৫ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে সিনেটর জশ হাওলি এই সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধটি অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এদিকে, ডেমোক্র্যাট সদস্যরা গোলাবারুদ ও মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য মার্ক কেলি সতর্ক করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোলাবারুদের মজুদ অসীম নয়। ইরান বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও মিসাইল তৈরি করতে সক্ষম। এক পর্যায়ে এটি একটি গাণিতিক সমস্যায় পরিণত হবে যে, আমরা কত দ্রুত গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পারব।”

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বের ওপর সরাসরি হামলা চালানো হচ্ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এখন দেশটিতে উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা, নৌবাহিনী এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চিরতরে বন্ধ করা।

সার্বিকভাবে, ইরানের ড্রোন সক্ষমতা ও মার্কিন গোলাবারুদের সংকট মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর