Image description

ইরাকের বসরা প্রদেশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে বড় পরিসরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে বসরা পুলিশ কমান্ড জানায়, প্রদেশের প্রশাসনিক সীমানার ভেতর সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থলগুলোতে তাদের ইউনিটগুলো চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ পাইলটের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রে একাধিক সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের ভূখণ্ডে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বিধ্বস্ত বিমানগুলো ছিল তিনটি 'এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল'। সেন্টকমের দাবি, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবিমানে গুলি চালায়, যা সামরিক পরিভাষায় ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ হিসেবে পরিচিত।

তবে ইরানের খাতাম আল আম্বিয়া হেডকোয়ার্টার্স সেন্টকমের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, কুয়েত-ইরাক সীমান্তের কাছে খোদ ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এই হত্যাকাণ্ডের কড়া জবাব দিতে তেহরান ‘ট্রু প্রমিস-৪’ নামে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের তেল আবিবসহ ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান।

মানবকণ্ঠ/আরআই