Image description

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা নিয়ন্ত্রণে নিজের কাছে ‘চমকপ্রদ পরিকল্পনা’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৯ মার্চ) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার প্রতিটি পদক্ষেপ সুপরিকল্পিত এবং এতে মার্কিনিরা ‘খুবই খুশি’ হবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের দশম দিনে ট্রাম্প তার আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর এভরিথিং (আমার সবকিছুর জন্য একটি পরিকল্পনা আছে)। তেলের দাম বাড়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাবে এবং জনগণ তাতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবে।” তিনি আরও জানান, এই যুদ্ধ প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দ্রুত শেষ হতে পারে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান এই পথে তেলবাহী জাহাজ বা ট্যাঙ্কার চলাচলে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ‘২০ গুণ বেশি শক্তি’ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লেখেন, এমন দুঃসাহস দেখালে ইরানের ওপর ‘মৃত্যু, আগুন এবং ক্রোধ’ নেমে আসবে।

ফ্লোরিডার ডোরাল এলাকায় নিজের গলফ ক্লাবে হাউস রিপাবলিকানদের সঙ্গে তিন দিনের এক সম্মেলন শেষে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত সহজ। এমন হামলা চালানো হবে যাতে ইরান একটি রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তেহরান এমন আত্মঘাতী পথে পা বাড়াবে না।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানকে চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর ‘উপহার’ হিসেবে দেখা উচিত। কারণ এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মানবকণ্ঠ/আরআই