Image description

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। এই প্রণালিতে ইরান মাইন বসিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের মাইন বসানো ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করেছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারের তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত করতে ইরান সেখানে মাইন পেতে রাখছে। এই খবরের পরপরই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবারই তারা হরমুজ প্রণালির কাছে অভিযান চালিয়ে ইরানের ১৬টি মাইনবাহী জাহাজ ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার বাহিনী ইতিমধ্যে ১০টি নিষ্ক্রিয় মাইন বসানোর জাহাজ ধ্বংস করেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে যদিও আমাদের কাছে এখনো সব তথ্য নেই তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক।”

তেহরানকে সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি মাইন সরানো না হয়, তবে ইরানকে ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা ইরানের মাইন বসানোর জাহাজ এবং মাইন সংরক্ষণাগারগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করা।

ইরানের উপকূলঘেঁষা এই জলপথটি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। চলমান যুদ্ধের কারণে এই পথ দিয়ে বর্তমানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান শক্ত অবস্থান ধরে রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের দশম দিনে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষই এখন মারমুখী অবস্থানে রয়েছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই