Image description

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে এবার বিশ্ব অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ খ্যাত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা তাদের কোনো মিত্র দেশের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি এক বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দেন।

মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি জানিয়েছেন, এতদিন ইরানের নীতি ছিল ‘পারস্পরিক হামলা’ বা সমানুপাতিক পাল্টা আঘাত। কিন্তু সেই সময় এখন শেষ হয়ে গেছে। তেহরানের নতুন রণকৌশল হবে ‘ধর্মঘটের ওপর ধর্মঘট’ অর্থাৎ একটি হামলার জবাবে একের পর এক ধারাবাহিক ও কঠোরতর আঘাত হানা হবে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জোলফাকারি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের অংশীদারদের স্বার্থে ব্যবহৃত কোনো জাহাজ বা তেল ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না। এই জলসীমায় আবদ্ধ বা যাতায়াতকারী যেকোনো শত্রু জাহাজ এখন থেকে ইরানের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।”

বিশ্বের জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, “আপনারা তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ তেলের বাজার মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। আর এই নিরাপত্তা আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।”

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অপূরণীয় ধস নামবে। কারণ বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের এমন মারমুখী অবস্থানে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

মানবকণ্ঠ/আরআই