Image description

ইরানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ পার করেছে—এমন একটি খবরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত তা ‘ভুল’ বলে প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের কর্মীদের এক মারাত্মক ভুলের কারণে খোদ জ্বালানি সচিবের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকেই এই বিভ্রান্তিকর তথ্যটি ছড়িয়ে পড়েছিল।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও ক্লিপসহ পোস্ট করা হয় যে, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করে নিয়ে গেছে। এই পোস্ট দেখার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে এবং অনেকেই মনে করেন গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি হয়তো আবার উন্মুক্ত হয়েছে।

তবে চাঞ্চল্যকর এই খবরটি প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই তা মুছে ফেলা হয়। মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের এক মুখপাত্র ই-মেইলে রয়টার্সকে জানান, এটি দপ্তরের কর্মীদের একটি যান্ত্রিক ও তথ্যগত ভুল ছিল। ভুল ক্যাপশন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত সেটি সরিয়ে ফেলা হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে হোয়াইট হাউস থেকে মঙ্গলবার স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেয়নি। অর্থাৎ ইরান ও ওমানের মাঝখানের এই সরু জলপথটি এখনো আগের মতোই কার্যত বন্ধ রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি দপ্তরের মুখপাত্র আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সচিব ক্রিস রাইট পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। তারা জ্বালানি খাতের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীকে হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য বিকল্প কিছু পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় তেলবাহী ট্যাংকার পার করার বিষয়টিও সেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।