Image description

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ এবার চরমে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইসরায়েলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর সদর দপ্তর এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের ইয়াভনে শহরের পশ্চিমে অবস্থিত ‘পালমাচিম’ বিমান ঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের ‘ওভদা’ বিমান ঘাঁটিতেও নির্ভুলভাবে আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোনগুলো। এই হামলায় ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে তেহরান।

এদিকে স্থলভাগের যুদ্ধের রেশ আছড়ে পড়েছে সমুদ্রপথেও। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ “অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের” আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক 

বাণিজ্য অভিযান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:

১. একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে আক্রমণের শিকার হয়েছে।

২. ওমানের উত্তরে অন্য একটি জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ায় নাবিকদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

৩. দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে তৃতীয় একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের এই ত্রিমুখী সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন খাদের কিনারায়। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে রহস্যময় এসব হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের এই সরাসরি আক্রমণ ও নৌপথে বিশৃঙ্খলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই