Image description

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন ও চাঞ্চল্যকর এক শর্ত আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেলের কার্গো বা লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহার করলে তবেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ট্যাংকারকে এই প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথে ট্যাংকার চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। মূলত আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতেই এই প্রথা প্রবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া রাশিয়া ইতোমধ্যেই তাদের তেলের বড় একটি অংশ রুবল বা ইউয়ানে বিক্রি শুরু করেছে। এবার ইরানও সেই একই পথ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চীনা মুদ্রার প্রভাব বাড়ানোর বেইজিংয়ের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে চাইছে।

যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘পেট্রোডলার’-এর জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে ইরানের যেকোনো নতুন শর্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও সিএনএন।