Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘প্রতারণা’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিজস্ব শর্তসমূহ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে না। একইসঙ্গে সংঘাত থামানোর বিনিময়ে ওয়াশিংটনের কাছে পাল্টা ৫টি কঠোর শর্ত পেশ করেছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা গেছে, একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা ওয়াশিংটনের প্রস্তাবকে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “ইরান তখনই যুদ্ধের ইতি টানবে যখন তারা মনে করবে সময় হয়েছে এবং তাদের শর্তগুলো পূরণ হবে।” তেহরানের অভিযোগ, অতীতে আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র দুইবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং আলোচনার মধ্যেই হামলা চালিয়েছে। ফলে বর্তমান প্রস্তাবের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই।

ইরানের পাল্টা ৫ শর্ত:

১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞ’ অবিলম্বে এবং পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—এমন সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৩. যুদ্ধে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুস্পষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

৪. মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত ফ্রন্ট এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিতে হবে।

ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরপরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি ‘পরাজয়’ স্বীকার না করে তবে তাদের ওপর আরও ভয়াবহ ও কঠোর হামলা চালানো হবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার শর্ত ছিল। বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ইরান মনে করছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ সংশ্লিষ্ট ইরানি উপকূল এবং তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্ক দ্বীপ’ দখলে স্থল সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত চার সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানে প্রায় দেড় হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই