তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনায় বসার আগে ইরানে একটি ‘স্বল্পমেয়াদী ও শক্তিশালী’ স্থল অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ইসরায়েল। বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মাআরিভ’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন যে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি হারানোর আগেই ওয়াশিংটন আলোচনার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি চূড়ান্ত সামরিক অভিযান শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ—হয় সংঘাত বাড়িয়ে ইরানকে পঙ্গু করে দেওয়া, না হয় সমঝোতায় যাওয়া।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর উপদেষ্টারা প্রথম পথটিকেই বেছে নিতে আগ্রহী। তাদের পরিকল্পনা হলো ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা জোরদার করা। জানা গেছে, ট্রাম্প ইরানকে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে বড় ধরনের হামলার হুমকি রয়েছে।
নেতানিয়াহু সরকার মনে করে, এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি হওয়া মানে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিজয় এবং তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করা। ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ইরানের জিডিপি-র প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্পের অনুরোধে বর্তমানে তেল ও গ্যাস খাতে হামলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও ইসরায়েল ইরানের কৌশলগত ইস্পাত শিল্পে আক্রমণ তীব্র করেছে।
এদিকে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও এই যুদ্ধ নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। একজন ইসরায়েলি কূটনীতিকের দাবি, প্রতিবেশী দেশগুলো ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে যেন তারা মাঝপথে যুদ্ধ থামিয়ে না দেয়। তাদের ভয়, অসমাপ্ত যুদ্ধে ইরান আরও বেশি উগ্র ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বিমান হামলায় ইরানের প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে, যা বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments