Image description

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক খামখেয়ালি আচরণ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চরম বিরক্ত হয়ে উঠেছে সৌদি আরব। বিশেষ করে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি এবং যুদ্ধের খরচ উপসাগরীয় দেশগুলোকে বহন করতে হবে—ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতে রিয়াদে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

থিংক-ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের সৌদি বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়ামের মতে, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বিশাল বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও বর্তমানে হোয়াইট হাউজের ওপর ‘চরম হতাশ’ সৌদি আরব। ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং পরিণতির কথা চিন্তা না করে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা এই হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি মিয়ামিতে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণ সৌদি আরবের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। ভাষণের শুরুতে যুবরাজ সালমানকে ‘মহান বন্ধু’ ও ‘যোদ্ধা’ হিসেবে প্রশংসা করলেও কিছুক্ষণ পরেই অত্যন্ত অশালীন মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তিনি (যুবরাজ সালমান) হয়তো ভাবেননি যে তাকে আমার পশ্চাদ্‌দেশে চুমু খেতে হবে। এখন তাকে আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।” যুবরাজের শীর্ষ সহযোগীদের সামনেই এমন মন্তব্যকে রিয়াদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের অমার্জিত ও অপেশাদার আচরণের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে।

সৌদি আরব শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের পক্ষে থাকলেও বর্তমানে তারা নিজেদের অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্নার্ড হেকেল জানান, ইরান পাল্টা আঘাত করলে সৌদি আরবের পানি শোধন কেন্দ্র (ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট) এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলো নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধের খরচ আদায়ের হুমকি সৌদিদের আরও বিচলিত করে তুলেছে। ট্রাম্প মনে করেন, আরবরা কেবল ‘টাকায় টইটম্বুর’ এবং তাদের ভয় দেখিয়ে সব বিল পরিশোধ করানো সম্ভব।

ট্রাম্পের চাপে পড়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতেও নারাজ যুবরাজ সালমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এদিকে রিয়াদ আশঙ্কা করছে, ট্রাম্প হঠাৎ করে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাবেন এবং সৌদি আরবকে তেহরানের রোষানলে একাই ফেলে দেবেন।

এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্কের সঙ্গে মিলে একটি আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। রিয়াদ এখন ‘সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং দ্রুত সমাপ্তিকে’ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পদক্ষেপের মধ্যে স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকা এই অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর