Image description

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি এবং এর ফলে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন। মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প উদ্ধত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই।’ উল্টো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আপনারা কি জানেন যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটাই হলো আসল যুদ্ধাপরাধ।’

সুইডেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৯টি দেশের কাছে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যার সিংহভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দখলে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সেই বাস্তবতার নিরিখেই দেখা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, ইরানকে একরাতের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব। তেহরান যদি দাবি না মানে, তবে তাদের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এমনভাবে অকেজো করে দেওয়া হবে যা আর কখনোই ব্যবহারের উপযোগী থাকবে না।

সংঘাতের আবহে সোমবার ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যাতে ২৫ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

তবে ট্রাম্পের এই কড়া হুমকির মুখেও নতি স্বীকার করতে রাজি নয় তেহরান। ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না। তাদের আশঙ্কা, স্বল্পমেয়াদী কোনো চুক্তিতে গেলে গাজা ও লেবাননের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—যেখানে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরআই