Image description

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর চরম উত্তেজনার মাঝে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এই জলপথ কার্যত রুদ্ধ থাকলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশ মালয়েশিয়ার একটি বিশালাকার তেলের ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদে যাতায়াতের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো মালয়েশীয় জাহাজের জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বিশেষ ছাড়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে ইরানি দূতাবাস বলেছে, "আমরা আগেই বলেছিলাম, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বন্ধুদের কখনো ভুলে যায় না।" মূলত পশ্চিমা মিত্রদের জন্য এই পথটি বিপজ্জনক হলেও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরেই তেহরান এই নমনীয়তা প্রদর্শন করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংঘাতের শুরুতেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, আমেরিকা, ইসরায়েল বা তাদের মিত্র কোনো দেশের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করলে সরাসরি হামলা চালানো হবে। এই অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুটেই পরিবাহিত হয়।

এদিকে মালয়েশিয়াকে বিশেষ ছাড় দিলেও ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। ট্রাম্প নতুন করে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে আত্মসমর্পণ না করে, তবে দেশটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, "ইরান আত্মসমর্পণ না করলে তাদের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।"

মানবকণ্ঠ/আরআই