মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে চীন ইরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করিয়েছে। এর আগে তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের ওপর বোমা হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বোমা হামলার জন্য তার নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগে প্রধান মিত্র তেহরানকে আলোচনায় বসাতে বেইজিং জড়িত ছিল কিনা, মঙ্গলবার এএফপিকে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি হ্যাঁ শুনছি। হ্যাঁ, তারা জড়িত ছিল।”
তিনজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস আরও বলেছে, অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায় চীন ইরানকে “নমনীয়তা দেখাতে এবং উত্তেজনা প্রশমিত করতে” বলার পর, শেষ মুহূর্তের হস্তক্ষেপে ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে।
কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুমোদন পেয়েছে, যিনি মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা হামলার শুরুতে আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে এবং প্রথম হামলায় নিহত তার পিতা আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তাকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
বেইজিং তেহরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা, যার বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথেও এর শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধের সময় তাদের ওপর ইরানের আক্রমণের বারবার সমালোচনা করেছে।
দুই পরাশক্তির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে চীনা প্রতিপক্ষ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। এই সফরটি মূলত এপ্রিলের শুরুতে নির্ধারিত ছিল, কিন্তু ট্রাম্প তা স্থগিত করে বলেন যে, ইরান যুদ্ধ তদারকির জন্য তাঁকে ওয়াশিংটনে থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে এবং এর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষ্যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির ওপর বোমা হামলা শুরু করার পর, ইরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালী অবরোধ করেছে।
প্রণালীটিতে যান চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এই প্রণালী দিয়েই শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়।




Comments