আফ্রিকার দেশ সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নির্ধারিত সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। মূলত চীনের ‘প্রবল চাপ ও অর্থনৈতিক জবরদস্তির’ কারণেই এই তিন দেশ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের বিমানকে পথ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাইপেই।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইটের অনুমতি না পাওয়ায় তাইওয়ানের কোনো প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফর পণ্ড হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। লাই চিং-তে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসোয়াতির সিংহাসন আরোহণের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবে যোগ দিতে দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের দাবি, বেইজিংয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, চীন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আফ্রিকার ওই তিন দেশের সিদ্ধান্তের ‘উচ্চ প্রশংসা’ করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘এক চীন’ নীতি বজায় রাখতে ওই দেশগুলোর অবস্থান সঠিক। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন একটি প্রদেশ মনে করে এবং লাই চিং-তে-কে ‘শান্তির বিনাশকারী’ ও ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “কোনো ধরনের হুমকি বা জবরদস্তি তাইওয়ানকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত করতে পারবে না।” অন্যদিকে, সফর বাতিল হওয়ায় এসওয়াতিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করলেও জানিয়েছে যে, এর ফলে তাইওয়ানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না।
উল্লেখ্য, বর্তমানে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেওয়া ১২টি দেশের মধ্যে এসওয়াতিনিই একমাত্র আফ্রিকান দেশ। মাদাগাস্কার ও সেশেলস তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জানিয়েছে যে, যেহেতু তারা তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাই তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments