টানা ৩০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকার পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুই মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই অভিযান শেষ করে কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করবে জাহাজটি। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এই রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ এবং ল্যাটিন আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার বিশেষ মিশনে যুক্ত ছিল। ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই কোনো মার্কিন রণতরীর দীর্ঘতম সময় মোতায়েন থাকার রেকর্ড। ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ফোর্ডের ২৯৫ দিন অবস্থানের এই রেকর্ডটি গত ৫০ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম। এর আগে ২০২০ সালে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ২৯৪ দিন মোতায়েন থেকে রেকর্ড গড়েছিল। তবে স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৭২-৭৩ সালে ‘ইউএসএস মিডওয়ে’র টানা ৩৩২ দিন মোতায়েন থাকার রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
রণতরীটি প্রত্যাহারের পেছনে বেশ কিছু যান্ত্রিক ও মানবিক কারণও রয়েছে। দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকায় নাবিকদের মানসিক চাপ এবং জাহাজের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাহাজের লন্ড্রি রুমে একবার আগুনের ঘটনায় বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি পরিস্থিতির কারণে এই রণতরীর অবস্থানকাল বারবার বাড়াতে হয়েছিল।
যদিও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ফিরে যাচ্ছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমছে না। গত সপ্তাহে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ ওই অঞ্চলে পৌঁছানোয় বর্তমানে সেখানে তিনটি মার্কিন রণতরী মোতায়েন রয়েছে, যা ২০০৩ সালের পর আর দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম এই রণতরী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পারদ কিছুটা কমার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো ঘোষণা না আসায় এই পদক্ষেপকে কেবল কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments