পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপি সদর দপ্তরে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘ সময় পর বাংলায় পদ্ম শিবিরের এই উত্থানকে 'ঐতিহাসিক' বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বাংলাকে 'ভয়মুক্ত' এবং 'উন্নয়নের আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ' রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে মোদী বলেন, "আজ থেকে বাংলার ভাগ্যে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। বাংলার পবিত্র ভূমিতে এক নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব আমি বাংলার বীর জনতাকেই উৎসর্গ করছি।"
এই নতুন অধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে একগুচ্ছ সংকল্প গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প (আয়ুষ্মান ভারত), যা নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘাত চলছিল, তা অবিলম্বে রাজ্যে চালু করার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল ধরে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এবার সেই অবসান ঘটবে।
এদিন ভাষণের মঞ্চ থেকে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিকেও তীব্র আক্রমণ করেন মোদী। নারী কোটা বিল আটকে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "নারীবিদ্বেষী রাজনীতির কারণে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিকে আজ পতনের মুখ দেখতে হয়েছে। আগামী দিনে তাদের আরও কঠিন 'নারীদের রোষের' সম্মুখীন হতে হবে।"
প্রধানমন্ত্রী এদিন ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, প্রাচীন ভারতের তিন শক্তিশালী স্তম্ভ— অঙ্গ (বিহার), বঙ্গ (বাংলা) এবং কলিঙ্গ (ওড়িশা) আজ পুনরায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এনডিএ-কে বেছে নিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "পূর্ব ভারতের উন্নয়ন বা ‘পূর্বোদয়’ ছাড়া ‘উন্নত ভারত’ গড়া সম্ভব নয়। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদল নয়, এটি আসলে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। আজকের ভারত শান্তি, স্থিতি এবং উন্নয়নের রাজনীতি চায়।"
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ থেকে পরিষ্কার যে, আগামী দিনে অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও সক্রিয় হবে এবং রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ বাড়বে।




Comments