Image description

কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া। বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরামব্রা বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়ে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা রামকৃষ্ণানকে পরাজিত করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন।

৩৪ বছর বয়সী ফাতেমা তাহলিয়া মোট ৬৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়েছেন। তিনি ৪ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি মুসলিম লীগের ইতিহাসের প্রথম নারী বিধায়ক (MLA) হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

কোজিকোড জেলার পেরুভায়ালে জন্ম নেওয়া ফাতেমা তাহলিয়া ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট ফেডারেশনের (MSF) শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন এবং পরবর্তীতে কোজিকোড করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লীগের রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। 

পেশায় তিনি একজন আইনজীবী; কোজিকোড ও ত্রিশুর সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে বর্তমানে কালিকট জেলা আদালতে প্র্যাকটিস করছেন।

ফাতেমা তাহলিয়ার এই জয়ের পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তাকে তীব্র সাইবার হামলা ও অনলাইন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। একজন হিজাব পরিহিত তরুণী মুসলিম নারী হিসেবে তার সক্ষমতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। তবে সব বাধা এবং রক্ষণশীল মানসিকতাকে পাশ কাটিয়ে তিনি জনরায় নিজের পক্ষে নিতে সক্ষম হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেরামব্রার মতো বামপন্থীদের একটি ‘নিরাপদ’ দুর্গে মুসলিম লীগের এই জয় কেরালার আগামীর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে ফাতেমা তাহলিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন ভাবনার খোরাক জোগাবে।

কেরালার পবিত্র বিধানসভায় এবার প্রথমবার কোনো মুসলিম লীগ নারীর কণ্ঠস্বর শোনা যাবে, যা রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক বড় মাইলফলক।