বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (৯ মে) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যের নতুন শাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শুভেন্দু ও বিজেপি শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি পুরোনো ভিডিও, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রায় এক দশক আগে ‘নারদ স্টিং অপারেশন’ সময়কার। ওই ভিডিওতে শুভেন্দু অধিকারীকে পাঁচ লাখ রুপি ঘুস নিতে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তৎকালীন সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ছিলেন। নারদ কাণ্ডে শুভেন্দুসহ তৃণমূলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।
মজার বিষয় হলো, এক সময় বিজেপি নিজেই তাদের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই ভিডিওটি প্রকাশ করে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছিল। এমনকি ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ভিডিওটির প্রসঙ্গ টেনে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। নাম না করে শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে মোদী বলেছিলেন, ‘টিভিতে সবাই দেখেছে কীভাবে নেতারা ক্যামেরার সামনে ঘুস নিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এদের ক্ষমা করবে না।’
২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বিতর্কিত সেই ভিডিওটি বিজেপির ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন—যাকে প্রধানমন্ত্রী একসময় ‘দুর্নীতিবাজ’ তকমা দিয়েছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি কীভাবে ‘ওয়াশিং মেশিনে’ ধুয়ে রাতারাতি পরিষ্কার হয়ে গেলেন?
বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপির জিরো টলারেন্স নীতি এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এই বিতর্ক শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রার শুরুতেই এক বড় নৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ও এবিপি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments