যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও লেবাননে থমকে নেই ইসরায়েলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী আগ্রাসন। শনিবার (৯ মে) দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (১০ মে) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের সদস্যসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক শিশুও। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এদিকে নাবাতিয়েহ এলাকায় ড্রোন থেকে চালানো এক নৃশংস হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়ের ওপর পরপর তিনবার হামলা চালায় ইসরায়েলি ড্রোন। এতে বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং মেয়েটি গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে হাসপাতালে তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালিয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহতের বিষয়ে তারা তদন্ত করছে বলে দায়সারা মন্তব্য করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলি বাহিনী এখনও দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, গাজার মতো লেবাননেও ইসরায়েলি বাহিনী আস্ত গ্রাম ধ্বংস করে দিচ্ছে, যা স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ।
পাল্টা হিসেবে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন ও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত শনিবার হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে আইডিএফ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৫ জনে। অন্যদিকে ইসরায়েলি পক্ষে ১৭ সেনা ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments