Image description

বরিশালে আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে গ্রেপ্তার এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বিতর্কিত জামিন ইস্যুতে আদালত অঙ্গনে উত্তেজনা থামছেই না। টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন আইনজীবীরা। এতে অচল হয়ে পড়েছে আদালতের সব ধরনের বিচারিক কার্যক্রম, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত বিচারপ্রার্থী।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। এদিন বার লাইব্রেরির সব প্রবেশদ্বার বন্ধ রাখা হয় এবং কোনো আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেননি। নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দিতে এসে বিচার না পেয়ে অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসসহ পাঁচজন শীর্ষ নেতা জামিন পান। বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, তাদের আদালতে প্রবেশ করতে না দিয়ে এবং অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই জামিন শুনানি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর প্রতিবাদে আইনজীবীরা আদালত বর্জন শুরু করলে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারিক কক্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে নামধারী ১২ জন এবং অজ্ঞাত আরও ২০ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সভাপতির গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ আইনজীবীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং আন্দোলন জোরদার করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন চাকলাদার মানবকণ্ঠকে বলেন, “ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনজীবীরা প্রতিবাদ করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে আমাদের সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি আইন পেশার স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। সভাপতিকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।”

এদিকে আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কিংবা সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর