তীব্র শীতে রাতের বেলা অনেকেরই হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকে। লেপ বা কম্বল দিয়েও যখন পায়ের পাতা গরম হতে চায় না, তখন আরামের জন্য অনেকেই মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসের যেমন চমৎকার কিছু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে, তেমনি কিছু সতর্কতা অবলম্বন না করলে তা ক্ষতির কারণও হতে পারে।
রাতে মোজা পরে ঘুমানোর উপকারিতা:
১. দ্রুত ঘুম আসে: গবেষণায় দেখা গেছে, পা গরম থাকলে মস্তিষ্কে ঘুমানোর সংকেত দ্রুত পৌঁছায়। এতে রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়।
২. পা ফাটা রোধ: যারা গোড়ালি ফাটার সমস্যায় ভোগেন, তারা রাতে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে মোজা পরলে পায়ের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং চামড়া নরম হয়।
৩. রেনল্ডস ডিজিজ থেকে সুরক্ষা: অতিরিক্ত ঠান্ডায় যাদের আঙুল নীল হয়ে যায় বা অবশ লাগে, মোজা পরলে তাদের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।
সতর্ক না থাকলে যেসব ঝুঁকি হতে পারে:
১. রক্ত সঞ্চালনে বাধা: অতিরিক্ত টাইট বা ইলাস্টিকযুক্ত মোজা পরলে পায়ে রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে, যা থেকে পা ফুলে যাওয়া বা অস্বস্তি হতে পারে।
২. সংক্রমণের ভয়: সারা দিন পরে থাকা নোংরা বা ভেজা মোজা পরে ঘুমালে ছত্রাক (ফাঙ্গাল) বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ হতে পারে।
৩. শরীরের তাপমাত্রা: শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ মোজা পরিয়ে রাখলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে অস্বস্তি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
সুতির ঢিলেঢালা মোজা: রাতে ঘুমানোর জন্য সিন্থেটিকের বদলে নরম সুতির বা উলের ঢিলেঢালা মোজা বেছে নিন।
পরিচ্ছন্নতা: অবশ্যই পরিষ্কার এবং শুকনো মোজা ব্যবহার করুন। বাইরের মোজা পরে বিছানায় যাবেন না।
পা শুকিয়ে নিন: ঘুমানোর আগে পা ভালো করে ধুয়ে মুছে শুকিয়ে তারপর মোজা পরুন।
যাদের মোজা পরলে সমস্যা হয়, তারা ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে পা ধুয়ে নিতে পারেন অথবা বিছানায় গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments