Image description

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর বা ঈদ-পরবর্তী সময়ে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। উৎসবের আমেজে হঠাৎ অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া কিংবা তেলযুক্ত ভারী খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ এমন খাদ্যাভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক মাস রোজা রাখার ফলে মানুষের হজম প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে যায়। হঠাৎ প্রচুর পরিমাণে খাবার খেলে সেই প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হয়। এর ফলে পেট ফুলে যাওয়া, অম্বল বা তীব্র গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এতে বুক জ্বালাপোড়া ও হজমে সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ আছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার রক্তচাপের অস্বাভাবিক ওঠানামা কিংবা হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দিতে পারে।

সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞদের ৬টি জরুরি নির্দেশনা
১. পরিমিত আহার: একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান।
২. পানি পানের নিয়ম: খাওয়ার ঠিক মাঝখানে অতিরিক্ত পানি খাবেন না। খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে অথবা ৩০ মিনিট পর পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
৩. খাবার সংরক্ষণ: গরমকালে খাবার বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। তাই পচনশীল খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখুন এবং খাদ্যতালিকায় সব সময় সহজপাচ্য খাবার রাখার চেষ্টা করুন।
৪. খালি পেটে সতর্কতা: খালি পেটে চা বা টক জাতীয় ফল না খাওয়াই শ্রেয়। এছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি বা কর্নফ্লেকস অনেকের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই নিজের শরীরের ধরন বুঝে খাবার নির্বাচন করুন।
৫. খাওয়ার পরপরই ঘুম নয়: রাতের খাবার অন্তত রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে হজমে ব্যাঘাত ঘটে, তাই অন্তত ১-২ ঘণ্টা পর ঘুমানো উচিত।
৬. শারীরিক পরিশ্রম: ভারী খাবার খাওয়ার পর ঘরে বা বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করুন। হজমে সহায়তার জন্য ঘরে তৈরি বোরহানি বা জিরাপানি পান করতে পারেন।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই নিয়মের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। উৎসবের দিনেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা ডেকে আনতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর