দীর্ঘ ৬ বছরের বিরতি ভেঙে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার একটি ফুটবল দল। এ মাসের শেষদিকে এশিয়ান উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (AWCL) সেমিফাইনাল খেলতে সীমান্ত পাড়ি দেবে উত্তর কোরিয়ার ক্লাব ‘নেগোহিয়াং’। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আগামী ২০ মে দক্ষিণ কোরিয়ার সুয়োনে অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালে স্বাগতিক সুয়োন এফসির মুখোমুখি হবে নেগোহিয়াং। এই ঐতিহাসিক সফরের জন্য ইতিমধ্যে ২৭ জন খেলোয়াড় এবং ১২ জন স্টাফসহ মোট ৩৯ জনের একটি তালিকা সিউলে পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো ক্রীড়াবিদ সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখতে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে পিয়ংচ্যাং শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়ার অ্যাথলেটরা দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেছিলেন। সে সময় দুই দেশের খেলোয়াড়রা যৌথভাবে আইস হকি দল গঠন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই কোরিয়ার রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘সবচেয়ে বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং পুনরেকত্রীকরণের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছে।
১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধ শেষ হলেও কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় দেশ দুটি এখনো প্রযুক্তিগতভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
এমন উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নেগোহিয়াংয়ের এই সফরকে একটি বিরল ‘ক্রীড়া কূটনীতি’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং যখন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বৈরিতা কমিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন, তখন এই ফুটবল ম্যাচটি নতুন মাত্রার গুরুত্ব বহন করছে।
চলতি আসরে প্রথমবারের মতো এশিয়ান উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলছে নেগোহিয়াং। কোয়ার্টার ফাইনালে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। ২০ মে-র সেমিফাইনালে বিজয়ী দলটি আগামী ২৩ মে একই ভেন্যু সুয়োনে গ্র্যান্ড ফাইনালে খেলবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মেলবোর্ন সিটি অথবা টোকিও ভার্দির মধ্যে বিজয়ী দলটি।




Comments