Image description

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ সর্বমোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

উপদেষ্টা জানান, চলমান অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬ রাউন্ড কার্তুজ এবং ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেনেড, মর্টারের গোলা এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের তৎপরতা রুখতে সারাদেশে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। উপদেষ্টা ঘোষণা দেন যে, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হবে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।" তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী তাৎক্ষণিক প্রবেশ ও ব্যবস্থা নিতে পারবে।

রাস্তাঘাট বন্ধ করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ছাড় দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা এবং সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই