বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের তীব্র প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত হল ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি বলেছে, এটি কোনো স্বাভাবিক সংস্কার প্রক্রিয়া নয়; বরং জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক স্মৃতি মুছে ফেলার একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কে এ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে স্থাপনার নাম পরিবর্তনের একটি নিন্দনীয় সংস্কৃতি চালু রয়েছে। তবে বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই প্রবণতা চরম রূপ নেয় এবং রাষ্ট্রীয় অর্থে ব্যাপকভাবে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এ প্রবণতাকে তারা ‘দলীয়করণের ঊর্ধ্বে পারিবারিকীকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় নামকরণের সংস্কৃতি যেমন বন্ধ হওয়া প্রয়োজন, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নাম পরিবর্তনের চর্চাও বন্ধ করা জরুরি। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অপ্রয়োজনীয় ও অনভিপ্রেতভাবে স্থাপনার নাম পরিবর্তনে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের নাম ‘বিজয় ২৪’, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল’ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের নাম ‘মওলানা ভাসানী হল’ করার মতো সিদ্ধান্তগুলো কোনো নীতিমালার ভিত্তিতে হয়নি। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ায়ও বিভিন্ন ভবনের নাম পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনটাই দাবি সংগঠনটির। প্রায় চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে শহিদ ওসমান হাদির নামে রাখার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, যা সিনেটে চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে ‘হটকারী ও রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ক’ বলে অভিহিত করেছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশাপাশি দুটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়—একটি শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যটি জিয়াউর রহমানের নামে। দীর্ঘদিন ধরে এই সহাবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি প্রতীক হিসেবে টিকে রয়েছে। সংগঠনটির মতে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের অজুহাতে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার কোনো যুক্তি নেই।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক আরও জানায়, শহিদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও প্রতিবাদে তারা বরাবরই সোচ্চার। তবে জনআবেগকে পুঁজি করে একটি দীর্ঘদিনের পরিচিত জাতীয় নেতার নামে থাকা ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তন করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শহিদ হাদির নামে নতুন কোনো ভবনের নামকরণ করা যেতে পারে, কিন্তু বিদ্যমান হলের নাম পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।
অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।




Comments