Image description

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রশাসনে কোনো রাজনৈতিক দলের লোক থাকবে না। প্রশাসনে থাকবে কেবল প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, যারা আমাদের সেবা দেবেন। তারা কোনো দলের নয়, বরং জনগণের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে ‘গণভোটের ক্যারাভান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয় ও গুঞ্জনের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “একটা কথা ফিসফিস করে বাতাসে উড়ছে—আসলেই কি নির্বাচন হবে? যেখানে রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন এবং ভোটাররা প্রস্তুত, সেখানে নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে। এমনকি ৩৮ বছর বয়সী নাগরিকও আছেন, যিনি গত ১৬ বছরে একবারও ভোট দিতে পারেননি। কানে কানে এসব বিভ্রান্তিকর কথা তারাই ছড়াচ্ছে, যারা বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় থেকে সব জায়গায় নিজেদের লোক রেখে গেছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে এবং এর জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।”

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, “রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তির কারণে প্রশাসনের কেউ সাহস করে সত্য কথা বলতে পারে না, কারণ তাদের রাজনৈতিক দলের কাউকে খুশি রাখতে হয়। আমরা এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।” আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সবাইকে আগামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের অনুরোধ জানান।

এর আগে উপদেষ্টা বেলুন উড়িয়ে গণভোটের ক্যারাভানের উদ্বোধন করেন এবং পরবর্তীতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠ থেকে শুরু হয়ে রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তিনি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর