অন্তর্বর্তী সরকার কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য একটি অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ) এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত যৌন হয়রানিকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য তিরস্কার, পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অধ্যাদেশ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পরে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিবরা সিদ্ধান্তের বিবরণ জানান।
মূল পয়েন্টসমূহ:
যৌন হয়রানির সংজ্ঞা বিস্তৃত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্মসহ ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত হয়রানি অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শাস্তি সুপারিশ করতে পারবে।
অভিযোগ গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান।
ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা অগ্রাধিকার, ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ।
মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও সুবিচার নিশ্চিত।
যেখানে কমিটি গঠন সম্ভব নয়, জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কমিটি গঠনের বিধান।
জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠন ও বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের আর্থিক, আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত।
একই বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়াও অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments