আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে অন্তত ১৬টি দেশ। এসব দেশ থেকে মোট ৫৭ জন দ্বিপাক্ষিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথ এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কয়েক শত পর্যবেক্ষকও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
দ্বিপাক্ষিক পর্যবেক্ষক দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ১৪ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। তাদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে তুরস্ক। তুরস্কের প্রতিনিধি দলে দেশটির সংসদ সদস্যরা থাকবেন এবং নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।
এ ছাড়া যেসব দেশ পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, সেগুলো হলো—এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন, পাকিস্তান থেকে ৩ জন এবং ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, জর্জিয়া, রাশিয়া, কিরগিজস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ জন করে এবং শ্রীলঙ্কা, ইরান ও উজবেকিস্তান থেকে ১ জন করে পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমন্বয় কার্যক্রমে সহায়তাকারী সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নান্না আকুফো-আডো। এ দলে আরও রয়েছেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। তাঁর সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাতজন সদস্য পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments