Image description

রংপুরের পীরগঞ্জে ধানের শীষের ২টি, হ্যাঁ ভোটের ২টি, না ভোটের ২টি সিলযুক্ত ব্যালট এবং ২টি সিল উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পপি খাতুন ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যালট ও সিল বুঝে পেয়েছেন বলে লিখিত দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় তাঁকে বিদ্যালয় থেকে বের করে গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।  

জানা যায়, সকালে ছুটি কাটিয়ে হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে। বেলা ১১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নবীউল শ্রেণিকক্ষে পড়ে থাকা কাগজ পরিষ্কার করছিল। এক সময় তারা আলমিরার সামনে সিল যুক্ত ৬টি ব্যালট পেপার দেখতে পায়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদকে জানায়। একপর্যায়ে অন্য শিক্ষকরাও জেনে যান। ধীরে ধীরে এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ধানের শীষের কর্মী ও সমর্থকরা বিদ্যালয় মাঠে ভিড় জমান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পপি খাতুন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে সমবেত হতে থাকেন। নারীরা ঝাড়ু উঁচিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করতে থাকেন। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুন্নবী পলাশ নেতাকর্মীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে আসনে। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বাইরে নেওয়া হয়। গাড়িতে ওঠানোর সময় উত্তেজিত জনতা তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে।
 
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি, সেখানে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাব।