Image description

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতসহ বিদেশি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলোকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, আগের সরকার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি তোয়াক্কা না করেই একের পর এক ‘দেশবিরোধী’ চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং বকেয়া পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব সরাসরি সম্পর্কিত। অনেক ক্ষেত্রে এসব চুক্তিতে সার্বভৌমত্বকে কার্যত গ্যারান্টি হিসেবে রাখতে হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আগের সরকার এই সংবেদনশীল বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা দেখায়নি এবং অধিকাংশ চুক্তিই করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থীভাবে।’

আদানি চুক্তিসহ বিগত সরকারের সময় করা সব বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রতিটি চুক্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যেসব চুক্তি দেশবিরোধী বলে প্রমাণিত হবে, সেগুলোর বিষয়ে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) বকেয়া পরিশোধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিন হলো। এই বিশাল বকেয়া একদিনে তৈরি হয়নি। বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণেই আজ এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি।’

আইনি জটিলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সরকার আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী। তবে কেউ যদি আইনি পথে হাঁটে, সরকারও সেই প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘জনগণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

তিনি আরও জানান, দেশের জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি কাজ করেছে এবং তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর