সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা মব সহিংসতা ও জনরোষের আশঙ্কায় সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনাগ্রহী। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মব হামলা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মানবাধিকার পরিস্থিতি
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দেশি-বিদেশি মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি জানায়, ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা, সীমান্ত হত্যা, মব আক্রমণ ও সাংবাদিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মব সহিংসতা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ, রাজনৈতিক গ্রেফতার ও বিচারহীন আটক নিয়ে সতর্ক করেছে। এই সময়কালে ৬০ জন নিহত এবং ১২৭ জন কারাগারে মারা গেছেন, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দিও রয়েছেন।
সাবেক উপদেষ্টাদের নিরাপত্তা শঙ্কা
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হলেও সাবেক উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন জনরোষ বা মব হামলার শিকার হতে পারেন। এজন্য সরকারি বাসভবনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেকে।
সরকারি ব্যবস্থা
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসভবন খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে ১–২ মাসের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতে পারে, তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ বাধ্যতামূলক। আবাসন পরিদফতরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং তারা পেনশন সুবিধাও পান না।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়বেন এবং পরে গুলশানের নিজ বাসভবনে উঠবেন।
নতুন সরকারের আবাসন সংকট
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে ২৪ বাংলো ও ১২ অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ২১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ইতিমধ্যে বাসার জন্য আবেদন করেছেন। মোট বরাদ্দযোগ্য বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ৩৭টি। আবাসন পরিদপ্তরের আশায় সবাই সরকারি বাসভবন চাইবেন না, তাই সংকট তীব্র হবে না।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments