যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, এই চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে শুরু থেকেই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর ধারণা দেওয়া হয়েছিল। একটি অনির্বাচিত বা অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও বিতর্কিত চুক্তি করতে পারে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ড. মোয়াজ্জেম বলেন, "শুরুতে আমাদের জানানো হয়েছিল যে আলোচনাটি কেবল শুল্ক (ট্যারিফ) ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে সীমাবদ্ধ। ধারণা দেওয়া হয়েছিল কিছু প্রকিউরমেন্ট চুক্তি করলেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তিপত্র প্রকাশের পর আমরা হতভম্ব হয়েছি। এটি দেশের অর্থনৈতিক ও নীতিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
তিনি সরকারের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "একটি অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে এমন একটি চুক্তিতে সই করে যেতে পারে, যার দায়ভার ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে বহন করতে হবে? অন্তর্বর্তী সরকারকে সমালোচনা করার মতো কোনো বিষয় থাকলে এই চুক্তিটিই হবে তার প্রধান উদাহরণ।"
ড. মোয়াজ্জেম আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির ধারা অনুযায়ী এখনো এটি সংশোধন বা বাতিলের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, "চুক্তির শেষ দুটি ধারা অনুযায়ী, উভয়পক্ষ ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সরে আসতে পারে। সব আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হওয়ার কথা নয়। যেহেতু এখনো সব প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, তাই সরকারের উচিত এটি পুনর্বিবেচনা করা।"
সিপিডির এই গবেষক মনে করেন, ট্যারিফ সংক্রান্ত এই চুক্তি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তির ফলে ভারত বা চীনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে কম খরচে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতি-নির্ধারণী সক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করবে।
পরিশেষে ড. মোয়াজ্জেম পরামর্শ দেন, একতরফা বা সীমাবদ্ধ চুক্তির পরিবর্তে উভয় দেশের বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষায় একটি সমন্বিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি হওয়া উচিত। তিনি সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments