দেশের নারী প্রধান পরিবারগুলোর অধিকার, মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী প্রধান পরিবারকে এই বিশেষ কার্ড প্রদান করা হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই মহতী উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
কার্ডের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
১. আর্থিক সহায়তা: প্রাথমিকভাবে প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে ভাতার পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
২. স্মার্ট প্রযুক্তি: এই কার্ডগুলো হবে অত্যাধুনিক স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপযুক্ত স্মার্ট কার্ড, যাতে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
৩. সরাসরি পেমেন্ট: জি-টু-পি (G2P) পদ্ধতিতে ভাতার টাকা সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। ফলে এখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।
মন্ত্রী জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। ১৩টি জেলার সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে জরিপ চালিয়ে প্রথমে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক যাচাই করে চূড়ান্তভাবে ৩৭,৫৬৪টি পরিবারকে নির্বাচন করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই হওয়ায় এখানে স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।
পাইলট পর্যায়ে যারা এই কার্ড পাবেন না তাদের মধ্যে রয়েছেন:
সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী।
যাদের নিজস্ব গাড়ি, এসি বা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র রয়েছে।
বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বা বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই পাইলট প্রকল্পের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের অন্তত ৫ জন সদস্য উপকৃত হবেন। সরকারের এই উদ্যোগ নারীর সামাজিক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments