Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপাকে পড়া নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোশারফ হোসেনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (এসভি ৮০৬) মোশারফ হোসেনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমরা পাঁচজন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে হারিয়েছি। সরকার প্রবাসীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে আনা হবে। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটুক।” 

তিনি আরও জানান, ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আজারবাইজান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বড় ধরনের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। তিনি জানান:
১. নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে।
২. যাদের বিএমইটি (BMET) কার্ড রয়েছে, তারা অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা বিমা সুবিধা পাবেন।
৩. নিহত মোশারফের দুই সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
৪. যুদ্ধকবলিত দেশগুলো থেকে যারা চাকরি হারিয়ে ফিরছেন, তাদের নতুন কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনে পুনরায় বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।

গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে আল-তোয়াইক এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশারফ হোসেন নিহত হন। ইফতারের আগমুহূর্তে চালানো ওই হামলায় তিনিসহ মোট তিনজন প্রাণ হারান। মোশারফের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মিশনগুলো প্রবাসীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর