Image description

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়নি নবগঠিত বিএনপি সরকার। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার পর একাধিক বৈঠকে মৌখিকভাবে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়টি আমাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে আমাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকে আমরা সরাসরি বিষয়টি মৌখিকভাবে উত্থাপন করেছি। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দিল্লিকে পাঠানো হয়নি।”

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তাদের কনসুলার অ্যাক্সেস এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সরকার দ্রুত এই সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “ইরানে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি নিরাপদে রয়েছেন। সরকার সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সব প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে গত ঈদের আগের রাতেই তেহরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”

ভারতের সঙ্গে জ্বালানি আমদানির বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দিল্লির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর