কুমিল্লায় বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে দুই গেটম্যানের কেউই ঘটনাস্থলে ছিলেন না: র্যাব
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি গেটম্যানের চরম দায়িত্ব অবহেলার কারণেই ঘটেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। দুর্ঘটনার সময় ওই রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানের কেউই নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি গেটম্যান মো. হেলালকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক লে. কমান্ডার মো. নাঈম উল হক। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন শংকুচাইল এলাকা থেকে অভিযুক্ত হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ২২ মার্চ রাত ৩টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচের রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি বাসের সাথে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই গেটম্যানরা পালিয়ে যান।
তদন্তের বরাত দিয়ে র্যাব আরও জানায়, ট্রেন আসার সময় নিয়ম অনুযায়ী গেট ফেলার কথা থাকলেও গেটম্যানরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে বাসটি অবাধে রেললাইনে উঠে পড়ে এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় নিহত যাত্রী সোহেল রানার খালা বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ নম্বর আসামি হেলাল এখন র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments