Image description

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকার আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করা, সে লক্ষ্যেই কাজ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের এককালীন চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চললেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এখনই তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবন কষ্টকর হয়ে পড়বে। জনগণের এই দুর্ভোগ লাঘবে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি খাতে গড়ে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।"

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার জ্বালানির চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর মার্চে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেট্রিক টন, যা এবার ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা বাড়লেও সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে।"

কূটনৈতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরান যে ৫টি দেশের জাহাজকে অনুমতি দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এটি বর্তমান সরকারের বড় একটি কূটনৈতিক বিজয়। জনগণের স্বার্থে পৃথিবীর যে প্রান্তে যাওয়া দরকার, সরকার সেখানেই পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।"

যশোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ।

এদিন যশোর জেলার ১৫৩ জন অসহায় ও দুঃস্থ নারী-পুরুষের মাঝে মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর