Image description

পহেলা বৈশাখকে বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বজুড়ে থাকা সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, শতাব্দীকাল ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে। এটি আমাদের অতীতের জীর্ণতা ও গ্লানি মুছে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

কৃষি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। প্রযুক্তির এই যুগেও আমাদের কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যগুলো আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত করে।"

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির মতো জনবান্ধব উদ্যোগগুলো এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশেষ ঘোষণা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই দেশজুড়ে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কার্ড ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক সহনশীলতা এবং উদারতা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংকট ও সংঘাতের এই সময়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তি বজায় রাখা জরুরি। আসুন, আমরা সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানবকল্যাণের পথে চলি।"

সবশেষে তিনি নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই কামনা করে দেশবাসীকে আবারও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

সূত্র: বাসস।

মানবকণ্ঠ/আরআই