শুকনো মৌসুম এলেই পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইতোমধ্যে জেলার সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নে সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য পানির জন্য হাহাকার চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার সুয়ালক ও টংকাবতি; রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা; রুমা উপজেলার গালেংগ্যা; রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা এবং থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট সবচেয়ে বেশি।
এসব অঞ্চলে ম্রো, বম, মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০টি পাড়া রয়েছে। এসব পাড়ায় প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারর সদস্যের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ে বছরে চার মাস বৃষ্টি হলেও বাকি সময় খরা থাকে। ওই চার মাসে বনজঙ্গল ও প্রাকৃতিক গাছপালা সারাবছর ধরে পানি রাখে এবং ঝিরি-ঝর্ণার মতো প্রাকৃতিক উৎসকে জীবন্ত রাখে।
কিন্তু বন উজাড়ের ফলে দিন দিন পানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই পাহাড়ের বন ও প্রাকৃতিক উৎস সংরক্ষণে স্থানীয়দের সচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর নীতিমালা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র জানায়, বান্দরবান জেলার সদর, লামা, আলীকদম, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ির উঁচু পাহাড়ের পানির উৎস ঝিরি-ঝর্ণা ও জুমচাষের ভিত্তিতে বসতি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে চিম্বুক অঞ্চলে ম্রো জনগোষ্ঠী কয়েক শ বছর ধরে বসবাস করছে।
কিন্তু বর্তমানে ঝিরি-ঝর্ণা শুকিয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকটে দিশাহারা হয়ে পড়েছে এই জনগোষ্ঠী।
মৌজা প্রধানদের ভাষ্য, ইতোমধ্যে পানির অভাবে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ম্রো জনগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তারা বলেন, অনেক জায়গায় কয়েক কিলোমিটার দূরের ঝিরি বা গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করতে হচ্ছে তাদের।




Comments