Image description

দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা অনুধাবন করতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাতেও লোডশেডিং দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “যদি লোডশেডিং করতেই হয়, তবে তা সংসদ ভবন থেকেই শুরু হোক। তাহলে জনগণ বুঝবে আমরা বাংলাদেশকে একটি অভিন্ন ও বৈষম্যহীন দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছি।”

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রস্তাব দেন।

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি মাননীয় সংসদ নেতাকে ধন্যবাদ জানাই তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি সরকারি দল থেকে পাঁচজনের নাম ঘোষণা করেছেন। আমি তাকে সম্মান জানিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে থাকা পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করছি।”

কমিটিতে বিরোধী দলের মনোনীত সদস্যরা হলেন:
১. সাইফুল আলম খান (ঢাকা-১২)
২. নুরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)
৩. আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬)
৪. মো. আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪)
৫. মুফতি মাওলানা আবুল হাসান (সিলেট-৫)

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া ‘ঢাকায় লোডশেডিং ম্যানেজমেন্ট’-এর প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, “মেহেরবানী করে এই লোডশেডিং যেন সংসদ ভবন থেকে শুরু হয়। সংসদ যেন এর বাইরে না থাকে। ঢাকার অন্য অংশে যদি এক ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে, তবে এখানেও যেন এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে। তাহলেই মানুষ বুঝবে সবাই একই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।”

বিরোধী দলীয় নেতার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ তো চালু রাখতে হবে, সংসদ তো বন্ধ করা যাবে না।”

জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমি সংসদ ভবন বলেছি, সংসদের অধিবেশন বলি নাই। অধিবেশনের বাইরেও ভবনের অনেক কাজ আছে, আমি সেই কথাটাই বলেছি।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর