দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল বা পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এই মাইলফলক অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করায় জ্বালানি লোডিংয়ের চূড়ান্ত পথ প্রশস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সময় স্বল্পতার কারণে ২৮ এপ্রিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প তার উৎপাদন প্রক্রিয়ার মূল স্তরে প্রবেশ করবে। শুরুর দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ক্রমান্বয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় (১২০০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ৫২ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ সফলভাবে আন্তর্জাতিক মানের লাইসেন্স অর্জন করেছেন। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ অপারেটরদের সাথে যৌথভাবে তারা কেন্দ্রটি পরিচালনা করবেন। জ্বালানি লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন কঠোর পরীক্ষা ও সেফটি অ্যানালাইসিস সম্পন্ন করা হবে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, এ বছরের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় ইউনিটেও ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নেওয়া হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদাও ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।
এদিকে, ২৮ এপ্রিলের ফুয়েল লোডিংকে সামনে রেখে প্রকল্প এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চরসাহাপুরে একটি ‘উঠান বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন স্থানীয়দের প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন এবং যেকোনো গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments