সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তেই অনড় সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার স্বার্থে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের যে সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিই বহাল থাকছে।
পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার কোনো বিকল্প নেই। গত ৯ মাস ধরে পর্যটন বন্ধ থাকার ফলে দ্বীপটির প্রকৃতি ও প্রতিবেশে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরেজমিনে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য দারুণভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে। দ্বীপটির অস্তিত্ব রক্ষার্থেই পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই ব্যবস্থা চালু রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে পর্যালোচনার পর ২০২৪ সালে সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কেবল নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস সেন্ট মার্টিনে পর্যটকরা যেতে পারবেন এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটককে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে।
এই তিন মাসে পর্যটকদের কারণে দ্বীপের যে ক্ষতি হয়, তা প্রাকৃতিকভাবে কাটিয়ে ওঠার জন্যই বছরের বাকি ৯ মাস (ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর) পর্যটন বন্ধ রাখা হয়। তিন মাসের বেশি সময় পর্যটন চালু রাখলে দ্বীপটির অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী।
অন্যদিকে, সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন। তাই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম আর্থিক সংকটে পড়া স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, পর্যটন সীমিত করায় এলাকার অর্থনীতিতে ধস নেমেছে এবং বহু পরিবার জীবিকার সংকটে পড়েছে। তবে দ্বীপ বাঁচানোর বৃহত্তর স্বার্থে সরকার আপাতত নিজ সিদ্ধান্তেই অটল থাকছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments