জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণে গঠিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছে। যাত্রা শুরুর মাত্র এক বছর আট মাসের মাথায় সংস্থাটি এখন নিজেদের কর্মীদের মাসিক বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বারবার আবেদন করেও প্রতিশ্রুত তহবিলের বাকি টাকা না পাওয়ায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ১০ আগস্ট শহীদ ও আহতদের সহায়তায় ৩৩৭ কোটি টাকার তহবিল নির্ধারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ফাউন্ডেশনটি শুরুতেই মাত্র ১০০ কোটি টাকা হাতে পায়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আর কোনো অর্থ ছাড় করেনি।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামাল আকবর জানান, বকেয়া ২৩৭ কোটি টাকা পাওয়ার জন্য তারা গত কয়েক মাসে অন্তত ১৫ বার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন, চিঠি দিয়েছেন এবং সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু বাজেট বরাদ্দ কম থাকা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে সেই অর্থ ছাড় করা হচ্ছে না।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১৪ হাজারের বেশি যোদ্ধার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি। তহবিলের অভাবে তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম থমকে আছে। শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান এবং শহীদ মো. সোহেলের বোন নুপুর আক্তারসহ অনেক পরিবারের সদস্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও দাবি জানিয়েছেন যাতে দ্রুত এই অর্থ ছাড় করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব সংসদ সদস্যকে (এমপি) তাদের এক মাসের বেতন অনুদান হিসেবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন সিইও কামাল আকবর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দ্রুত এই সংকটের সমাধান করবে এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments