Image description

তীব্র তাপপ্রবাহ আর বিদ্যুতের আকাশচুম্বী চাহিদার মধ্যেও উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। গত এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটি ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে জোগান দিয়েছে, যা দেশের মোট উৎপাদনের ৯ শতাংশেরও বেশি।

রোববার (৩ মে) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় জ্বালানি সংকটের এই সময়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এক নির্ভরযোগ্য ‘অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এপ্রিলজুড়ে অসহ্য গরমের মধ্যেও কেন্দ্রটি গড়ে ৮০ শতাংশ প্লান্ট লোড ফ্যাক্টর (পিএলএফ) বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে মাসের প্রথম সপ্তাহে যখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়, তখন প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষা করেছে এই কেন্দ্রটি। উল্লেখ্য, এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করল রামপাল।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অত্যন্ত আধুনিক ‘আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে পরিবেশ রক্ষায় উন্নত ‘ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন’ (এফজিডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশগত মানদণ্ড কঠোরভাবে নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী রমানাথ পূজারী বলেন, “সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্র পরিচালনা করা আমাদের শক্তিশালী নকশা ও দলের নিরলস প্রচেষ্টারই ফল। এটি দুই দেশের সফল সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

বর্তমানে ভারতের এনটিপিসির বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই কেন্দ্রটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে দেশের নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন এক অপরিহার্য সম্পদে পরিণত হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই