তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ আর অনির্দিষ্টকাল হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের ‘বাঁচা-মরার’ প্রশ্নে সরকার চীনের সহায়তায় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেবে। মঙ্গলবার (৫ মে) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, "তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বেইজিং সফরে অবশ্যই বিস্তারিত আলোচনা হবে।"
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে এক দশকের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা চুক্তি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে এখনো নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা কী ভাবছেন সেটা তাদের বিষয়। কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের কাজ বন্ধ রাখা চলবে না। তিস্তা অঞ্চলের মানুষের জন্য ‘জাগো বাহে’ ডাক এসেছে, সেই ডাকে সাড়া দেওয়া আমাদের সরকারের অঙ্গীকার।"
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিটি আটকে আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট’ হাতে নেয়, যাতে চীন বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে ভারতও সম্প্রতি এই প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের কাছে মানুষের স্বার্থই সবার আগে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে আমরা সব বিকল্প অনুসন্ধান করব এবং যেটি দেশের জন্য সর্বোত্তম, সেটিই গ্রহণ করব।"
তিন দিনের এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া চীনের ‘পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের’ চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের’ চেয়েও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এদিকে, ভারত থেকে ‘পুশইন’ বা অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত ভূমিকার সময়ও আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পুশইনের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে ঢাকা তার উপযুক্ত ও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।”
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments